
জনগণের টাকায় উন্নয়ন, নাকি ব্যক্তিপূজার রাজনীতি? প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কি জনগণের স্বার্থে নেওয়া হচ্ছে, নাকি ব্যক্তি ও পরিবারের নাম প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা?
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় নতুন ইউনিয়নের নামকরণ ঘিরে এমন প্রশ্নই এখন আলোচনায়। তারেক রহমানের বন্ধু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম অনুসারে একটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে “মীরবাড়ি”। পাশাপাশি আরও দুটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে প্রতিমন্ত্রী এর ত দুই ছেলের নামে—“সীমান্ত” ও “দিগন্ত”।
প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত, এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পরিবর্তে ব্যক্তি ও পারিবারিক পরিচয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। এটি উন্নয়নের নামে প্রশাসনিক কাঠামোকে ব্যক্তি ও পরিবারকেন্দ্রিক প্রচারের হাতিয়ারে পরিণত করার একটি উদাহরণ।
ইউনিয়নের নাম কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের প্রচারের মাধ্যম নয়; এটি একটি এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং জনগণের পরিচয়ের প্রতিফলন হওয়া উচিত। তাই জনগণের প্রশ্ন—এসব নামকরণের ক্ষেত্রে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে? স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত কতটুকু বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে? এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে কি না, তার জবাব কে দেবে?
উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা জনগণের জন্য হয়; কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের নাম স্থায়ী করার জন্য নয়।